প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৪, ০৪:০৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও গত দুদিনেও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার বিকেলে (১৩ মে) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তবে আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিবাদমান শিক্ষার্থীদের সংযত থাকা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
রাবির জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রণব কুমার পাণ্ডে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তের বিষয়ে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আজ বিকেলে হল প্রশাসনের মিটিং করার কথা থাকলেও সম্ভব হয়নি। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুর দুইটায় মিটিংয়ের সময় নির্ধারণ করেছি। সেখানে সব ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করব। আশা করছি, সেই কমিটির তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে।
হল প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, হলে ইতিমধ্যে আরও দুটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এক কর্মচারীকে মারধর ও সেই সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করার জন আমাকে হুমকি দেওয়া ঞয়েছে। আমরা মিটিংয়ে এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুপারিশ করব।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবাদমান শিক্ষার্থীদের সংযত থাকা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া হল প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়।
গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক তারিকুল হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক আশাবুল , উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, হল প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষক এবং জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রণব কুমার পাণ্ডেসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত শনিবার (১১ মে) দিবাগত রাত ১১টা থেকে দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় রামদা ও লাঠিসোঁটা হাতে একে অপরকে ধাওয়া দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল গেট ও মাদার বখশ হলের মধ্যবর্তী স্থানে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়ে পরস্পরের ওপর এ হামলা চালায়।
সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদের পক্ষ। তবে সংঘর্ষ চলাকালে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারীদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হয়ে হামলা চালাতে দেখা গেছে।
আবাসিক হল ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, গেস্টরুমে বসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। এছাড়াও গত রবিবার (১২ মে) তথ্য পাচারের অভিযোগে হলটির মনিরুল ইসলাম নামের এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন