বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৪, ০৬:২৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নন্দীগ্রামে মন্দিরে হামলাকারীর শাস্তির দাবি আ'লীগ নেতার

ছবি সংগৃহীত

বগুড়ার নন্দীগ্রামে হাটকড়ই মহাশ্মশানের কালীমাতা মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোসহ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে হাটকড়ই মহাশ্মশানে হামলার ঘটনাস্থল কালীমাতা মন্দির পরিদর্শন করেন নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা। তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ব্যাপারে সতর্ক ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। 

তিনি বলেন, হাটকড়ই মন্দিরে হামলাকারীরা জামায়াত পরিবার। বিএনপি-জামায়াতকে বলব আপনাদের কর্মীদের সামলান। যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, আপনারা সাবধান হয়ে যান। রাতের অন্ধকারে এসে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত কোনো ধর্মই সমর্থন করে না। 

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, আপনাদের ভয় নাই। শেখ হাসিনা আপনাদের সঙ্গে আছেন, আওয়ামী লীগ আছে, আমি পাশে আছি। নন্দীগ্রাম উপজেলায় কোনো সংখ্যালঘু নেই, ধর্মীয় কোনো ভেদাভেদ নেই। মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর করে সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

আওয়ামী লীগ নেতা আরও বলেন, হাটকড়ই মন্দিরে হামলার ঘটনায় কোনো নিরীহ মানুষ যেন পুলিশি হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হয়। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। 

হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় হাটকড়ই শিবশক্তি মন্দির চত্বরে মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ কামাল ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা অরুণ জ্যোতি, মো. কামরুজ্জামান, ইউপি সদস্য প্রসন্ন কুমার, আব্দুল মালেক প্রমুখ। 

উল্লেখ্য, সোমবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের হাটকড়ই সার্বজনীন মহাশ্মশান এলাকার কালীমাতা মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মন্দিরের মেঝেতে প্রতিমা উপুর হয়ে ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে মহাশ্মশানে ভিড় করেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শতশত মানুষ। সবধর্মের মানুষ একত্রিত হয়ে দোষী ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পুলিশ কর্মকর্তারা দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে উত্তেজিত পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায়  ফয়সাল করিম রেজা নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।  

মন্তব্য করুন