রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৪, ০১:৫০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সৌদি প্রবাসী ফরহাদের মরহেদ ফেরত চান তার পরিবার

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ ফরহাদের মরদেহ বাংলাদেশের মাটিতে ফেরত চান তার পরিবার, একই সাথে ফরহাদের মৃত্যুর রহস্যও জানতে চান তার পরিবার। সৌদি আরব সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা ফরহাদের মরদেহ পেতে চাই। দুই দেশের সরকারের কাছে এমন দাবি প্রবাসে নিহত ফরহাদের পিতা আব্দুল জলিলও তার পরিবার পরিজনের। 

জানা গেছে, প্রবাসে নিহত ফরহাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন প্রত্যন্ত দুর্গম লংগদু উপজেলার ঝর্ণা টিলা গ্রামে। ফরহাদের পিতার নাম আব্দুল জলিল ও মাতার নাম ফজর বানু।

নিহত ফরহাদের পরিবার জানিয়েছেন, ফরহাদ তার স্ত্রী ও ২ সন্তানের জন্য গত এক বছর হলো প্রবাসে পাড়ি দিয়েছেন। হঠাৎ করে গত ২৩ মে ২০২৪ সৌদি আরব থেকে ফরহাদের এক সহকর্মী নাম সরওয়ার ফোন দিয়ে আমাদেরকে বলেন,ফরহাদ নাকি আত্নহত্যা করে মারাগেছেন! বিষয়টি আমরা কিছুতেই মানতে রাজি না। কারন আত্নহত্যা করার মত ছেলে না ফরহাদ। এখানে কোন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে।  ওই দিন একটু পরেই ফোন দেন প্রবাসী তৌহিদ সে ফরহাদের বায়রা ভাই। সেও একই কথা বলে ফরহাদ আত্নহত্যা করে

সৌদিতে মারা গেছেন! আর আমার ছেলে ফরহাদকে সৌদিতে নিয়ে গেছে এই তৌহিদ। তবে নিহতের পিতা আব্দুল জলিলের ধারনা ফরহাদের মৃত্যুর রহস্য জানতে প্রবাসী সরওয়ার ও তৌহিদই যথেষ্ট। 

জানা গেছে, নিহত সৌদি প্রবাসী ফরহাদের স্ত্রী সুমি বেগম তার স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তেমন কোন শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। সে বিষয়েও ভাবছেন নিহতের পরিবারবর্গ। গত ৪-৫ মাস আগে ফরহাদের স্ত্রী ২ ছেলে সন্তান

শ্বশুর বাড়িতে রেখে গার্মেন্টস চলে যায়। সেখানে গিয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এমন অভিযোগ তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের। সুমির পিতার নাম মোঃ নুরু,নোয়া বাজার, উপজেলার-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম। 

নিহত ফরহাদের বাবা সন্দেহ করে বলেন, আমার ছেলে আত্নহত্যা করেনি তাকে বউ সুমি তার দুলাভাই প্রবাসী তৌহিদ এবং প্রবাসী সরওয়ার মিলে ষড়যন্ত্র করে সৌদি আরবে সুকৌশলে মেরে ফেলছেন। না হয় সৌদি থেকে আমার ছেলের মরদেহটি আনতে তৌহিদ ও সরওয়ার সহযোগিতা করছে না কেন? আমি আমার ছেলের লাশ ফেরৎ চাই সাথে  সাথে ছেলের মৃত্যুর রহস্যও জানতে চাই। তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি আরব সরকারের কাছে দাবি যে কোন মূল্যে আমি আমার ছেলে লাশ দেশের মাটিতে ফেরত চাই। যদি কোন রহস্য না থাকে তাহলে তৌহিদ কেন বললেন লাশ আনতে হলে ১০ লক্ষ টাকা লাগবে? আমি গরিব অসহায় মানুষ এত টাকা কোথায় পাবো।

জানা গেছে,সুমির সাথে ফরহাদের বিয়ে হয় প্রায় একযুগ অতিবাহিত হয়েছে। তাদের সংসারে ২টি ছেলে সন্তানও রয়েছে। বড় ছেলের নাম নাজমুল হোসেন (৮) ও ছোট ছেলের নাম নাহিদ হোসোন।

এব্যাপারে মুঠোফোনে সুমিকে ও তার দুলাভাই তৌহিদকে একাধিক বার ফোন করা হলে তারা উভয়ই ফোন রিসিভ করেনি। সরওয়ারের সাথে ও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই তাদের বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

 

মন্তব্য করুন