প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৪, ০৩:২৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ওসমান মিয়া (১৭) হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি ৯ মাসেও। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহতের পরিবার। হত্যার ন্যায় বিচার পাবে কিনা এই সন্দেহের দানা বেধেছে স্বজন হারাদের মনে।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করার পর আশার আলো দেখছিলের নিহতের স্বজনরা। খুনিরা ধরা পড়বে আর সন্তান হত্যার বিচার পাবে এমন প্রত্যাশা করেছিলেন বাদী নেয়াজ মিয়া। কিন্তু ৯ মাস গত হলেও মামলার কোন অগ্রগতি করতে পারেনি সিআইডি। গ্রেপ্তার করতে পারেনি হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত এমন কাউকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় নির্মাণাধিন টি টাওয়ারের ৪ তলায় গত বছরের ৮ জুলাই রাতে ওসমান মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে সহকর্মীরা। যদিও ঘটনাকে আতœহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার নীল নকশা করা হয়েছিল। ভবন মালিক পক্ষের কয়েকজন দালাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তৎকালিন ওসি ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল হত্যা কান্ডটিকে ধামাচাপা দেওয়ার বহু নাটক সাজিয়েছিল। কিন্তু নিহতের আপন বড় ভাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া কোন নাটকই সফল হয়নি। তবে প্রথমে থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় নিহতের পিতা আদালতে যান। শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নূসরাত সাহারা বীথির আদেশে ঘটনার ৩৭ দিন পর ২৮ আগস্ট ৯ জনকে এজাহার নামীয় আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ওসমান হত্যা মামলা রুজু করা হয়। যার নাম্বার-৬০। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ২৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার সিআইডির নিকট হস্তান্তর করা হয়। মামলায় আসামি করা হয় হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার কৃষ্ণনগর নোয়াগাঁও এলকার মতি মিয়ার ছেলে সাইদুল(৩২), কুদ্দুস মিয়ার ছেলে জহিরুল(৩৫), বিলাত মিয়ার ছেলে রিপন (৩০) ও খোকন (২৫),ইছু মিয়ার ছেলে শিপন(২২), একই থানার চরগাঁও এলাকার আঞ্জু উল্লার ছেলে মনু মিয়া(৫০), ভবন মালিক পক্ষের দালাল সিদ্ধিরগঞ্জের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুর রহমান, হাজী সিদ্দিক মুন্সির ছেলে আক্তার হোসেন ও মৃত আকরাম আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেনকে।
মামলার বাদী নেয়াজ মিয়া জানান, মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুকসুদুর রহমান দুবার আমার বাড়িতে গিয়ে আসামি গ্রেপ্তার করার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। তার পরও তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন বা আসামিদের বাড়িতে না গিয়ে কিংবা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা না করে শুধু আমার বাড়িতে গিয়ে টাকা নেওয়া ছাড়া মামলার তদন্তের অন্য কোন অগ্রগতি করতে পারেননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মকুসুদর রহমান বাদীর বাড়ি হবিগঞ্জ যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তবে মামলার তদন্ত কাজ শেষ করার আগেই তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে গেছেন বলে জানান।
নিহত ওসমান মিয়া হবিগঞ্জ জেলার কৃষ্ণনগর থানার বানিয়াচং এলাকার নেয়াজ মিয়ার ছেলে। সে একই এলাকার বাসিন্দা মামলার ১ থেকে ৬ নম্বর আসামিদের সঙ্গে তার বড় ভাই স্বপন মিয়াসহ সিদ্ধিরগঞ্জে এসে টি টাওয়ারে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।
মন্তব্য করুন